Menu Close

বিধানসভায় নেই, ময়দানে আছি

sujan chakraborty arrested by police

রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুক্রবার শুরু হল। এই প্রথম বামপন্থীরা বাংলার বিধানসভায় নেই। পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় রাজনীতিতে বামপন্থী দলগুলোর একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সেই ভূমিকা ঐতিহাসিক। সাধারণ মানুষের জন্য বিধানসভার অধিবেশন কক্ষকে যে রুটি রুজির লড়াইয়ে সামিল করানো যায় বামপন্থীরা সে নজির পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বারে বারে স্থাপন করেছেন। ভারতবর্ষের খুব কম বিধানসভাতে এর নজির আছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ভালো দিকগুলোকে বামপন্থীরা সবচেয়ে বেশী কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে। স্বভাবতই অনেকেই জানতে চাইছেন আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন, শুরু হল সেখানে এই প্রথম বামপন্থীরা নেই, এটা আমার কেমন লাগছে? বলাই বাহুল্য, ভালো লাগার কথা না। আমি গত পাঁচ বছর বাম পরিষদীয় দলনেতা ছিলাম। সেই কর্তব্য, দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি।

এবারের নির্বাচনে আমাদের পার্টি এবং বাম দলগুলোর কেউই জিততে পারেননি। আমি নিজেও পরাজিত হয়েছি। একইভাবে কংগ্রেসেরও কেউ জিততে পারেননি। এত বড় একটা সর্বভারতীয় দল তাদেরও কোন প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় নেই।

এখন প্রশ্ন হল যেটা অনেকেই জানতে চাইছেন যে আমি বা আমরা কি এজন্য ব্যথিত? যে কথা বলছিলাম, খারাপ তো লাগেই। তার কারণ বিধানসভা অবশ্যই সরকারকে চেপে ধরার, তার নীতি, কর্মসূচির ত্রুটি বিচ্যুতি বের করার একটা বড় মঞ্চ। বিরোধীদলের সেখানে বিরাট ভূমিকা আছে একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু সরকারকে চেপে ধরার, সরকার ঠিক পথে চালিত হচ্ছে কিনা সেদিকে নজরদারির আসল কাজটা করেন কিন্তু সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক দল সেখানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নেতৃত্ব দেয়। ফলে বিধানসভার বাইরেও যে বিস্তীর্ণ মাঠ ময়দান, পথঘাট পড়ে আছে সেখানে মানুষের দাবি-দাওয়া অভাব-অভিযোগ সরকারের নীতির দুর্নীতি, অনিয়ম এসবের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। লড়াই করব।

বিধানসভায় আমরা আছি কি নেই তার দ্বারা এই লড়াইয়ের মূল্যায়ন হতে পারে না। এই লড়াইয়ের কর্মসূচি ঠিক হতে পারে না। ফলে বিধানসভায় আমাদের না থাকাটা আরেক দিক দিয়ে বলতে গেলে আমাদের কর্তব্য দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদেরকে আরো বেশি করে মানুষের কাছে যেতে হবে। এবারের ভোটে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটি নির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার প্রতিফলন ভোটের বাক্সে ঘটেছে। মানুষ তার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে বুঝে যাবেন যে তাঁরা সিদ্ধান্ত সঠিক নিয়েছেন না বেঠিক নিয়েছেন। কিন্তু তার মধ্যে মানুষকে দোষারোপ করার কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করিনা। বরং চলতি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমাদেরকে আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে। তার জন্য বিধানসভায় আমরা আছি কী নেই এটা বিচার্য হতে পারে না।

বিধানসভায় আমরা থাকলে নিশ্চয়ই একইভাবে সরকারকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করতাম তার অপদার্থতার জন্য।

বামপন্থীরা বরাবরই ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে বৃহৎ লড়াইয়ের পথে এগিয়েছে। পরিষদীয় রাজনীতিতেও তার অন্যথা হয়নি। ১৯৪৬-এ জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে মাত্র তিনজন বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বামপন্থীরা, সিপিআইএম দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তাঁর একটা উজ্জ্বল উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিল। সেই উপস্থিতির জোরেই সাতটি বামফ্রন্ট সরকারকে বাংলার মানুষ তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে আমাদের যে উজ্জ্বল ইতিহাস আছে আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেই ইতিহাসই  আমাদেরকে সামনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে আগামী দিনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *